শিরোনাম

South east bank ad

আলোচিত মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিল সরকার

 প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন   |   বিচার বিভাগ

আলোচিত মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিল সরকার
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলা কিংবা পুরান ঢাকার দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা- হাইকোর্টের রায়ের পর এ ধরণের আলোচিত মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে আপিল বিভাগে বিচারাধীন ছিল। এত বছরেও আসামি পক্ষ কিংবা রাষ্ট্রপক্ষ এসব মামলার শুনানির উদ্যোগ নেয়নি।
কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এরকম আলোচিত চারটি মামলা দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

এরইমধ্যে আপিল বিভাগে এই চার মামলা উপস্থাপনের পর শুনানির জন্য তারিখও নির্ধারণ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে-নারায়ণগঞ্জের সাতখুন মামলা, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা, মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলা এবং বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা।

বহুল আলোচিত এসব মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণতার সময় এসব আলোচিত মামলাগুলো যদি দ্রুত নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের দিকে যাওয়া যায় তাহলে হয়তো এধরনের অপরাধ থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচানো যেতে পারে।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, এটা ভালো উদ্যোগ হলেও আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ দিয়ে ২/৩টি বেঞ্চ গঠন করলে ভালো হতো। কারণ এ মামলাগুলোর শুনানি করতে গেলে অন্য মামলায় প্রভাব পড়তে পারে।

শুনানির জন্য এসব মামলার দিন ঠিক হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো.রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন,অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত আলোচিত মামলা, যেগুলো আমাদের সমাজকে আলোড়িত করেছে, সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে সেগুলোর যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সেজন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের সাতখুন মামলা, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাদ হত্যা মামলা, মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা- এই চার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কাজ চলছে। এসব মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছেন সে আপিলগুলোর শুনানির জন্য আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের অনেক ব্যস্ততা এবং আনুষাঙ্গিক অনেক বিষয় থাকার পরও আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, এই মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে যেন শুনানি শুরু হয়। হাইকোর্টের আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যেমনটি করেছি এই সমস্ত মামলাগুলোও ক্ষেত্রেও একইভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুনানি করার জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট ল’ অফিসারদেরকে এসাইনমেন্ট দিব। যারা এগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিবে। সুতরাং যে তারিখ নির্ধারিত হয়েছে তার আগেই মামলার প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করব।

আমরা তো রাষ্ট্রের পক্ষে জনগণের জন্য কাজ করি। এত বড় একটা আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ তো চায় যে এই সমস্ত ঘটনার যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় অর্থ্যাৎ রায় হয়, এবং তা কার্যকর হয় তাহলে, এ ধরনের অপরাধ থেকে সমাজ মুক্ত থাকবে। রাষ্ট্রের পক্ষের আইন কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এ সমস্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করা কারণ আমরাও তো এই সমাজের মানুষ আমরাও তো এই মাটির সন্তান। এর ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলেও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এ বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, নি:সন্দেহে এটা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু আপিল বিভাগে বেঞ্চ মাত্র একটি এখানে তো আরও মামলা আছে। সুতরাং দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে একাধিক বেঞ্চ গঠন করলে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।
BBS cable ad