শিরোনাম

South east bank ad

দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চুরি : ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২১, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন   |   ডিবি

দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চুরি :  ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

গত ২১ এপ্রিল গ্রেফতার হাবিব মিয়া তার বিদেশ ফেরত এক আত্মীয়কে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আনার কথা বলে কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। পরদিন ২২ এপ্রিল আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাইক্রোবাস চালক মো. আবুল বাশার হাবিবের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী করিমগঞ্জ থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টায় তাদের বহনকৃত মাইক্রোবাসটি ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে পৌঁছালে তারা লুঙ্গি, গামছা ও দড়ি দিয়ে মাইক্রোবাস চালকের হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরে এই কায়দায় গাড়ি করে আসা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন—মীর মিজান মিয়া, মো. হাবিব মিয়া, মো. ফারুক, কামাল মিয়া, মো. আল আমিন ও মোবারক। চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে গ্রামের বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে অব্যবহৃত সিম কিনে ব্যবহার করতো। চক্রের সদস্যরা ভাবতেন সেই সব সিম ব্যবহার করলে তাদের ধরা যাবে না।


আজ শনিবার (০৫ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, বিমানবন্দরে আত্মীয়কে আনতে প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে রওনা দিতেন ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। এরপর সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে কৌশলে গাড়ি থামিয়ে চালকের হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতেন তারা।  আর সেসব ছিনতাইকৃত গাড়ি বিক্রিও করতেন দেশে আসা প্রবাসীদের কাছে।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চক্রটি এখন পর্যন্ত কতগুলো গাড়ি চুরি করেছে তার তদন্ত চলছে। তবে তারা জানিয়েছেন, তাদের ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকারগুলো তারা সিলেটে বেশি বিক্রি করেছেন। কারণ, সিলেটে বিদেশ ফেরত বহু প্রবাসী কয়েক মাসের জন্য দেশে এসে অল্প দামে গাড়ি কিনতে চান। আর চক্রটিও ওই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছিল। 
একটি দস্যুতার মামলার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে এ চক্রটির সন্ধান মিলেছে। তারা ধীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চুরি করলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে ছিল। অন্য একটি মামলার তদন্তে চক্রের সদস্য হাবীব মিয়াকে গ্রেফতারের পর প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চোর চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসে। উত্তরা পূর্ব থানায় দস্যুতা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে একটি চক্র আছে যারা কৌশলে প্রাইভেটকার ছিনতাই করে অল্প দামে বিদেশ থেকে কয়েক মাসের জন্য ঘুরতে আসা প্রবাসীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে হাবীব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার নরসিংদী ও কুমিল্লা জেলার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 


BBS cable ad

ডিবি এর আরও খবর: