গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
শুক্রবার (২২ মে) পরিবেশকর্মী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেছেন, ঢাকার গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের দখলদারিত্ব শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও একইভাবে মাঠ-পার্ক দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তারা এ ধরনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশকর্মী নাঈম উল হাসান বলেন, ঢাকায় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠলে তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় দেশে পার্ক ও খেলার মাঠের সংখ্যা খুবই কম, অথচ উন্নত দেশগুলোতে নগর পরিকল্পনায় এসব স্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে বেসরকারি চুক্তিকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সদস্য আবু নইম সোহাগ বলেন, সরকার প্রতিটি এলাকায় মাঠ রাখার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মাঠ দখল হয়ে যাচ্ছে। আইপিডির সদস্য পরিকল্পনাবিদ ফাহিম মন্ডল বলেন, পার্কগুলোকে তৃতীয় পক্ষের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং পার্কের পুরোনো নাম “শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক” পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা মাঠ-পার্ক ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় কমিউনিটির যৌথ ব্যবস্থাপনা মডেল প্রস্তাব করেন। তাদের মতে, এতে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ক্লাব মাঠ-পার্ককে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
এছাড়া গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা, রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সমঝোতা স্মারক বাতিল, মাঠ-পার্কের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ এবং সারা দেশের মাঠ-পার্ক দখলের তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়।


