শিরোনাম

South east bank ad

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে জনগণের বাজেট আসছে: অর্থমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন   |   মন্ত্রী

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে জনগণের বাজেট আসছে: অর্থমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২ জুন)  অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনৈতিক সুফল পৌঁছে দেওয়ার বাজেট। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসাই এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

আজ রাজধানীর ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় বাজেট ও প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবিত হয়।

তিনি বলেন, জিডিপিতে শুধু বড় শিল্প ও ব্যবসা নয়, গ্রামীণ নারী, কামার-কুমার, তাঁতি, শীতলপাটি শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সৃজনশীল অর্থনীতি ও প্রান্তিক উৎপাদকদের জন্য বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। তাদের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে সারা দেশে ‘ইউনিভার্সাল প্রাইমারি হেলথকেয়ার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার নেতৃত্বে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠন করা হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেটের ভূমিকা বাড়বে এবং ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। সরকারি সেবা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘সিঙ্গেল ফোকাল পয়েন্ট’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দপ্তর সাড়া না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন কার্যকর হবে।

বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রকল্পকে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নতুন প্রকল্প গ্রহণে ‘ভ্যালু ফর মানি’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ এবং ‘পরিবেশগত বিবেচনা’—এই চারটি মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
BBS cable ad

মন্ত্রী এর আরও খবর: