নরসিংদীতেই থাকছেন এডিসি মাহমুদা
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার নির্দেশে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলির আদেশ বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। এই জেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের নামে সরকারি টাকা লুটপাটের আয়োজন বন্ধ করে আলোচিত কর্মকর্তা তিনি। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তোপের মুখে পড়েন এই কর্মকর্তা।
জানা যায়, জমি অধিগ্রহণের সুবিধাভোগী প্রভাবশালী একটি চক্র তাকে সরিয়ে দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের এই খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পিত ফাঁদে ছাই দেওয়ায় এডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মিশনে নামে প্রভাবশালী চক্রটি। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরসিংদীর জমি অধিগ্রহণের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে উত্থাপিত বিস্তর অভিযোগ তদন্ত মনিটরিং করছেন। ভূমিমন্ত্রী নিজে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে মাহমুদা বেগমকে নরসিংদী থেকে বদলির আদেশ বাতিল করার নির্দেশ দেন। এরপরও তাকে কয়েকদিন পর খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি আদেশ জারি করা হয়।
এ নিয়ে ১১ জুন যুগান্তরে ‘২৪ দিনে ৩ বার বদলি, ভূমিমন্ত্রীও রাখতে পারলেন না সেই এডিসিকে’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এমন বদলির আদেশ নিয়ে প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ’র নির্দেশে ১ জুলাই তাকে স্বপদে বহাল রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বারবার তাকে বদলির পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন উপসচিব মোস্তফা মনোয়ার। তিনি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত। ৩০তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসাবে নরসিংদীতে দায়িত্ব পালন করেন। এডিসি হিসাবে আড়াই মাস দায়িত্বে থেকে এই কর্মকর্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে গেছেন।


