শিরোনাম

South east bank ad

বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোর পক্ষে আইনমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   বিচার বিভাগ

বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোর পক্ষে আইনমন্ত্রী


সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কমানো নয়, বাড়ানোর পক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন, বিচারপতিদের অভিজ্ঞতা যত বাড়বে তত বেশি আইনি সেবা পাওয়া যাবে।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী উচ্চ আদালতের বিচারকদের বয়স, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম, প্রধান বিচারপতির এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলেন।

বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। আমরা বলেছি, এটি আলোচনার ফোরাম নয়। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কমিটি হবে, সেখানে বিষয়টি উঠলে ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা হবে। কারণ এর সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জড়িত।’ তিনি বলেন, ‘আমি বয়স (বিচারপতিদের অবসর) কমানোর পক্ষে নই, বাড়ানোরই পক্ষে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন ব্যবস্থা আছে। বিচারপতিদের অভিজ্ঞতা যত বেশি হবে, আমরা তত বেশি আইনি সেবা পাব।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে আমাদের বিচারপতিদের অবসরের বয়স বর্তমানে যা (৬৭ বছর) আছে, সেটি কমানোর জন্য কেউ উদ্যোগ নিলে, কী কারণে নিচ্ছেন তা আমরা বিবেচনা করব।’

কেউ কেউ বিচার বিভাগকে ‘সুপার স্বাধীনতা’ দেওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কী না এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বলতে এখানে আইন মন্ত্রণালয়কে বোঝায়। আইনমন্ত্রী হিসেবে এ ধরনের কোনো কথা আমরা বলিনি। সুতরাং অন্য কে কি বলল, সেটা আমি আমলে নিচ্ছি না।’
 
প্রধান বিচারপতির এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি প্রধান বিচারপতির একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার কারণ তিনি ভালো জানেন। তবে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।’

ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে।’
 
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘মামলার সংখ্যা বাড়াটা আমাদের কাছে উদ্বেগের বিষয় নয়। অপরাধের বিচার হতে হবে। আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কিনা। আমরা সেটিই করব।’

৫ আগস্টের পর সংঘটিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার হবে কিনাÑএমন প্রশ্নে আইন ও বিচারমন্ত্রী বলেন, ‘মব সিস্টেমেটিক বা পূর্বপরিকল্পিত নয়, এটি জনগণের একটি রিঅ্যাকশন। এটি যদি সাধারণ অপরাধের মধ্যে পড়ে, তবে সাধারণ আইন অনুসারেই দেখা হবে। এর বিচার ট্রাইব্যুনালে করতে গেলে যেকোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবকে অসম্মান করা হবে।’
 
জাতীয় সংসদের রহিত হওয়া অধ্যাদেশগুলো বাজেট অধিবেশনে না উঠলে পরের অধিবেশনে উঠবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া আগামী ১৭ মে মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুমসংক্রান্ত আইনের বিষয়ে কনসালটেশন (পরামর্শ) সভা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
BBS cable ad