জাপানে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাত
জাপানে এক রাতে দুই বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলে প্রথম প্রথম আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পরেরটি ছিল ৪ দশমিক ৩ মাত্রার।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগাত রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলেও। এরপর রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে প্রথমটির তুলনায় কম মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪ মিনিটে পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে এর ফলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইচি প্রিফেকচারের এক জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে বেশির ভাগই সামান্য আহত হওয়ার ১৬টি খবর পেয়েছেন তারা।
প্রতিবেশী শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে স্থানীয় পত্রিকা চুনাইচি শিমবুন ও তোকাই টেলিভিশন পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আইচি অঞ্চলের তোয়োহাসি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের কারণে রবিবার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল। ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমে ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে বসবাসকারী এক বিদেশিকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
পরে আরেক ভূমিকম্প
রবিবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখনো গত জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন, বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালে সমুদ্রতলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে জাপানে। এতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।


