‘ডিসি বারী’ হলেন প্রতিমন্ত্রী, এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস
জয়পুরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে খুশিতে ভাসছে জয়পুরহাট তথা তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। তারা মনে করছেন জয়পুরহাট-২ এলাকার মানুষ স্বাধীনতার পর কোনো মন্ত্রীত্বের স্বাদ পাননি। সর্বশেষ ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি থেকে জয়পুরহাটের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত আব্দুল আলীম রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
আব্দুল বারীর মাধ্যমে তাদের সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তার নির্বাচনী এলাকা কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার মানুষেরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। নেতাকর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করে বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণও করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে।
জয়পুরহাট-২ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচনে জয়ী হয়েই আব্দুল বারী স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে রাস্তায় রাস্তায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন নির্বাচনী এলাকার মানুষেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অভিনন্দন বার্তা দিয়ে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন অনেকেই।
আব্দুল বারী ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি অবসরে যান। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে তিনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরাগভাজন ছিলেন। অবসরের পরও তার অবসরকালীন প্রাপ্যতা আট বছর স্থগিত ছিল। তিনি ছিলেন খুবই সাধারণ একজন কর্মকর্তা।
২০২৫ সালে তিনি ভুতাপেক্ষ সচিবের মর্যাদা লাভ করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসন থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমাবর নির্বাচনে অংশ নেন।
চাকরি জীবন থেকেই ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদশে বিশ্বাসী। অবসর সময়ে তিনি এলাকার মানুষদের সেবা দেওয়ার ব্রত নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নামেন। আর এ সময়ের মধ্যেই তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিন উপজেলার রাস্তা-ঘাট,স্কুল কলেজ ও মাদরাসা এবং মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নে তার ভূমিকায় এলাকার মানুষদের প্রশংসা অর্জন করেন। এমনকি আলুর মৌসুমে সারের সংকট নিরসনে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিক টন সার সরবরাহের ব্যবস্থা করে চমক সৃষ্টি করেন। তিনি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত না হলেও এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ হিসেবে অধিক পরিচিত। সবাই তাকে ‘ডিসি বারী স্যার’ সম্বোধন করেন। নির্বাচিত না হয়েও তিনি এলাকাবাসীর কাছে নির্বাচনকালীন এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে ঊর্ধ্বতন মহলে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
জয়পুরহাট-২ আসনে প্রথমবারের মতো তিনি বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে ৬৫ হাজার ৫১৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। অথচ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষের তৎকালীন প্রার্থী গোলাম মোস্তফা জয়ী হয়েছিলেন মাত্র ৩ হাজার ১৬০ ভোটের ব্যবধানে। এবারের নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ হলেও এলাকায় ধানের শীষের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে সখ্যতা এবং ব্যক্তিগতভাবে সততা ও ক্লিন ইমেজের কারণেই অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করে ব্যাপক ব্যবধানে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পদের হিসেব দিয়েছেন ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর অস্থাবর সম্পদের উল্লেখ করেছেন ২৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৭ টাকা।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিপরিষদে জয়পুরহাটের কৃতি সন্তান আব্দুল বারী স্থান পেয়েছেন এমন খবরে আমরা খুবই খুশি। আমরা আশা করছি উন্নয়নের জন্য জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা শতভাগ সফল হবো। সততা ও যোগ্যতা দিয়ে নতুন মন্ত্রী আমাদের সেই আশা পূরণ করবেন।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা কোনো মন্ত্রী পাইনি। আশা করছি, আমাদের অত্যন্ত দক্ষ নেতা আব্দুল বারীর হাত ধরেই এবার এলাকার উন্নয়ন ঘটবে। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে এলাকার মানুষ খুবই খুশি।
কালাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন বলেন, আমরা কালাইবাসী সবচেয়ে বেশি খুশি এ জন্য যে, আব্দুল বারী আমাদের কালাইয়ের কৃতি সন্তান। তার কারণেই আমরা কালাই তথা জয়পুরহাটবাসী দীর্ঘ ৪৫ বছর পর মন্ত্রী পেয়েছি। আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ বিএনপির জন্য পাগল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের মূল্যায়ন করেছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করছি এবার এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। শতভাগ সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এলাকার উন্নয়নে আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।


