আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইনমন্ত্রী
দেশে আইনের শাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইনস্টিটিউট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার ও কল্যাণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সমাজের অনেক মানুষ চোখে আলো থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন না। আবার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও অনেকে অন্তর্দৃষ্টি ও মানবিক চেতনা দিয়ে সমাজকে আলোকিত করছেন। তাই শুধু চোখে আলো থাকলেই হবে না, মানুষের অন্তর্চক্ষুও খুলতে হবে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। সত্যকে উপলব্ধি করে মানবিক বিবেক দিয়ে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যে যেখানে থাকি না কেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের তাড়নায় কাজ করতে হবে। ভুল হলে তা স্বীকার করে সংশোধন করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন স্বৈরাচারী মানসিকতায় পরিণত না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং ন্যায়, মানবিকতা ও আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, সহনশীলতা, সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.), কম্পিউটার, তথ্যপ্রযুক্তি ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নূরুদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ ও ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমিরি জোরগাজদিনিসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইনস্টিটিউট ২০০৪ সাল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের ইংরেজি ও আরবি ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্রেইল পদ্ধতিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।


