আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন খোরশেদ আলম খসরু
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু আপিলের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শামসুল আলমের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) নির্বাচন আপিল বোর্ড তাদের আবেদন গ্রহণ করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। নতুন তালিকায় খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য ছিলেন উপসচিব ফারহানা ইসলাম ও চিত্রা শিকারী।
এর আগে গত ৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনের বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের নাম না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর একটি ধারা উল্লেখ করে জানানো হয়েছিল, টানা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর বিরতি ছাড়া পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে খোরশেদ আলম খসরু দাবি করেন, যে বিধান দেখিয়ে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বিধানটি পরবর্তী সময়ে কার্যকর হয়েছে। শুনানি শেষে আপিল বোর্ড তাদের যুক্তি গ্রহণ করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। ফলে তারা আবারও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আলম খসরু বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল ন্যায়বিচার পাব। আপিল বোর্ডের রায়ে আমরা আনন্দিত। আশা করি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। ২০১৩ সালের পর স্বল্প সময়ের বিরতি ছাড়া অধিকাংশ সময়ই প্রশাসকের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ফলে নির্বাচিত নেতৃত্বের অভাব নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অসন্তোষ তৈরি হয়।
দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে। এ সময় ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সদস্যপদ নবায়নের পাশাপাশি 'আম-মোক্তারনামা' পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রযোজক যতগুলো চলচ্চিত্রই নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন।
প্রথমে নির্বাচন আগামী ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ৮ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংশোধিত তালিকায় খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের প্রার্থিতা ফিরে আসায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।


