খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, খাদ্যদ্রব্যে অনিরাপদ রাসায়নিক ও অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) কার্যালয়ে আয়োজিত “ফেলোশিপ কার্যক্রম-২০২৬” এর ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেখানে এক কেজি কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন, সেখানে তিন কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। আম, পাবদা মাছ ও শসাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০ বছর আগেও দেশে এত ক্যান্সার দেখা যেত না। এখন খাদ্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হচ্ছে এবং চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।”
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে বিশেষভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএফএসএর কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাজের ক্ষেত্রে দুই ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে—একটি বিবেকের কাছে, অন্যটি আইনের কাছে। কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে না।”
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, খাদ্যে ভেজাল বর্তমানে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া জাতিকে রক্ষা করার আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাসও দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফএসএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও ড. মোহাম্মদ শোয়েব।
এ সময় নির্বাচিত ফেলোদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসি জেবা। তিনি বলেন, এ ফেলোশিপ তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বিএফএসএ ফেলোশিপ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সাধারণ ফেলোশিপ–১ (এমএস/সমমান) ক্যাটাগরিতে ৩২৩টি আবেদন থেকে ২০ জন ফেলোকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। গবেষণার জন্য খাদ্য অণুজীব বিজ্ঞান, খাদ্য রসায়ন, খাদ্য বিষবিদ্যা, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও উদীয়মান প্রযুক্তিসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ ফেলোশিপের আওতায় প্রত্যেক ফেলোকে এক বছরে মাসিক ৭ হাজার টাকা হারে মোট ৮৪ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া সুপারভাইজারের সম্মানী ও গবেষণা ব্যয়সহ প্রতিজনের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
ভবিষ্যতে ফেলোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য।


