শিরোনাম

South east bank ad

প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন   |   মন্ত্রী

প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়ন, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিশোধের বদলে ক্ষমাশীলতা, সংলাপ ও ন্যায়ভিত্তিক পুনর্মিলনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে সমাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হবে না।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, মুক্তবুদ্ধি, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, ফ্যাসিবাদের পতনই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; প্রকৃত অর্জন হবে জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলমান। প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে ইউজিসি কাজ করছে। এ লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে নতুন রাষ্ট্রগঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ন্যায্যতা, সাম্য ও জবাবদিহির ভিত্তিতে দেশ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগের ফলে দেশে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ন্যায্য আচরণ পাবে এবং হতাশায় না ভোগে।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ বক্তব্য দেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনে শহিদ শিক্ষার্থী একরামুল হক সাজিদের মা লিপি বেগম, যিনি তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় ‘জুলাই আন্দোলন: সংগ্রামের চিত্রমালা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং একই শিরোনামের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
BBS cable ad

মন্ত্রী এর আরও খবর: