শিশুর বিকাশে প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, এ কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে শিশুদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (BEN) ও প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চ্যানেল আইয়ের মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত ‘Act for Early Years: Safeguarding Childhood and the Planet’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, সংবেদনশীল যত্ন, নিরাপত্তা, প্রারম্ভিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রতিবন্ধকতা এবং শিশুর সার্বিক বিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু এবং ৫১ শতাংশ নারী। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নারী ও শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী অতীতের বিভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিশু-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে শিশুদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


