খাদ্য গুদাম নির্মাণে টেকসই পরিকল্পনার তাগিদ
খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে খাদ্য অধিদপ্তরে খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে খাদ্য গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুদামগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। গুদামের নকশায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, খাদ্যশস্যের মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি এমন অঞ্চলে সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো গুদাম সংস্কার ও উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় ভবিষ্যৎ খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থা খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বলেন, সরকারি স্থাপনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। খাদ্য অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নয়নে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ডভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে খাদ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষরিত স্মারক বিনিময় করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এর ফলে খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অপচয় কমবে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার হবে।


