মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের অঙ্গীকার
বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।
গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা ও অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর হলে এ বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আলু ও ওষুধ আমদানি বাড়ানো এবং ভিয়েতনামের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আরসিইপির সদস্যপদ অর্জনে বাংলাদেশের প্রতি ভিয়েতনামের সমর্থনও প্রত্যাশা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করে।


