দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার
সরকারের ঘোষিত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনআস্থা সুদৃঢ় করতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগের আওতায় কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, পেশাগত সংস্কার এবং একাধিক সংস্থার সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও মাদক পাচার দমনে পুলিশ নিয়মিত টহল, রুটিন অভিযান এবং বিশেষ দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে অপরাধ দমনে আমরা সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক সাড়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত পুলিশি অভিযানে আটক করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে। দেশব্যাপী অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজারের বেশি দেশীয় ‘চকলেট বোমা’।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১২টি এয়ারগান এবং একটি পেনগান।
একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক মাদকবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেছে। অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে দেশব্যাপী অপরাধবিরোধী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চলমান উদ্যোগে জোরদার পুলিশি তৎপরতা, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পুলিশ বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


