স্কুল ফিডিংয়ে পুষ্টির পাশাপাশি সুশাসনের পরীক্ষাও: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে। শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি এ কর্মসূচির মাধ্যমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআইয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজিত ‘জবাবদিহিতা, কার্যকর বিদ্যালয় নেতৃত্ব, দলগত সমন্বয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিশুর প্রাপ্য খাবার যথাযথ মান ও পরিমাণে পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুধু পুষ্টি সহায়তার উদ্যোগ নয়, এটি সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই লক্ষ্য নয়, প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে এসে শেখে, সেটিই মূল বিষয়। একটি শিশুও যদি বিদ্যালয়ে গিয়ে না শেখে, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য কতটি ভবন নির্মাণ হয়েছে তা দিয়ে নয়, কতজন শিশুর শেখা নিশ্চিত হয়েছে তা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম আরও আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দুটি নতুন বই যুক্ত করা হবে। এসব বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাক্রমে সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব নীতিমালায় পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মাহবুবা আইরিন এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মো. আবদুল আজিজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


