ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ ৮ ঘণ্টায়: ডিএসসিসি
সোমবার (২৫ মে) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আনন্দময় ঈদ উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
আজ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি
পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওযুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান, ওযুখানা, বিশুদ্ধ পানি, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা
কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ডিএসসিসি একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস (STS) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যে, প্রথম দিনের বর্জ্য পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই অপসারণ করা হবে।
এ বছর তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল এবং ২ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি (ট্রাক, কম্প্যাক্টর, পে-লোডার ইত্যাদি) নিয়োজিত থাকবে।
এছাড়া সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।
সরাসরি মনিটরিং ও জরুরি সেবা
কোরবানির হাটের কার্যক্রম এবং বর্জ্য অপসারণ তদারকি করতে ডিএসসিসি’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (Central Control Room) থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি হাটে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান
পরিচ্ছন্ন শহর নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানেই কোরবানি এবং পশুর বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া কোরবানি পরবর্তী স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে জীবাণুনাশক (ব্লিচিং পাউডার/স্যাভলন) ছিটিয়ে দেওয়ার এবং ড্রেন বা নর্দমায় কোনোভাবেই বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন
ঈদযাত্রার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যান ডিএসসিসি প্রশাসক। এ সময় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তিনি টার্মিনাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে।


