সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে নতুন রূপে ডিএসসিসি
ঢাকার সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাত সংস্কার করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্কার করা ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন, পথচারীদের বসার জন্য বেঞ্চ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে সেগুনবাগিচায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি স্থান পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থানে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় নিষিদ্ধ স্থানে বসলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করা বা দরিদ্র হকারদের পুঁজির ক্ষতি করা ডিএসসিসির উদ্দেশ্য নয়। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্র ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ এবং অন্যান্য দিন আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূল সড়ক বন্ধ করে বা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাতে হকার বসতে পারবেন না।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, আগে যে স্থান দিয়ে মানুষের স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন ছিল, সেটি এখন হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি। করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত এলাকাটি পরিষ্কার রাখবেন। পাশাপাশি সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় শিল্পকলা একাডেমি এবং নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের নয়, সব ঢাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব।


