থানা থেকে পালিয়ে গেল সাজাপ্রাপ্ত আসামি
পল্লবী থানা থেকে ডিএমপি প্রসিকিউশনের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ। পুলিশের দায়িত্বশীল কেউই বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ। তারা মূলত পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে একটি সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি উঠে এসেছে। কখন, কিভাবে আসামি পালিয়ে যায় তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এছাড়া পল্লবী থানার একাধিক সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসিরের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠলেও তিনি তা মানতে নারাজ। বরং যুগান্তরের কাছে তিনি দাবি করেন, ‘আসামি যে পালিয়ে গেছে-তার প্রমাণ দেন।’
এ বিষয়ে সংস্থাটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওসির কথার মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। যেহেতু তিনি বলছেন, আসামি পালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দেন-অর্থাৎ তিনিই প্রমাণ রাখেননি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লবী থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, থানার সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ যেহেতু ডিএমপির সদর দপ্তরের হাতে, সেহেতু তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
জানা গেছে, পলাতক ওই আসামির নাম মো. শহিদুল ইসলাম (২০)। তার বাবার নাম মতিন মিয়া। সে ২ মাসের সাজাপ্রাপ্ত। ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানায় ঘটনাটি ঘটে। শহিদুল ইসলাম ভাষানটেক থানার আবুলের পোড়া বস্তির বাসিন্দা। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার আইলাসমিতি এলাকায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে স্পেশাল মেট্রোপলিটন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্ট বসে। ওই কোর্টে মিরপুর বিভাগের ৭টি থানার অপরাধীদের ডিএমপি অধ্যাদেশে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। শহিদুল ভাষানটেক থানার ডিএমপি অধ্যাদেশ প্রসিকিউশন ৭৭/১০০ ধারায় বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দুই মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
সূত্রে আরও জানা গেছে, মিরপুর বিভাগের কাফরুল, ভাষানটেক, রূপনগর ও শাহআলী থানার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিএমপির অধ্যাদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পল্লবী থানার হাজতে রাখা হয়। তাদের দেখভালের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির। ঘটনার দিন মিরপুর মডেল থানার আসামি এসকর্ট পার্টির মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় জেলখানার উদ্দেশে পল্লবী থানার হাজতখানা থেকে শহিদুলকে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানের কাছে আনা মাত্রই সে কৌশলে হাতকড়া খুলে ফেলে। এরপর থানার বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, সেদিন আসামি পালানোর মতো কোনো কিছুই ঘটেনি।
এদিকে পল্লবী থানা থেকে আসামি পালানোর খবর মিরপুরজুড়ে চাউর হলেও থানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে। তারা মুখে যেন কলুপ এঁটেছেন। আসামি পলানোর খবরে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছেন।


