নৌ-প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ফেরিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও তা উপেক্ষা করেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কাউন্টারে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা প্রতি ট্রাক থেকে অতিরিক্ত ৫০-২০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়ায় কর্মকর্তারা।
জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজীর হাট নৌরুটে ফেরি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী ও যানবাহন পারাপার এবং ঘাট এলাকার সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিসি অর্থাৎ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন।
নৌপথে যানবাহনগুলোর জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন। তবে, প্রতি ট্রাক থেকে নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও অতিরিক্ত ৫০-২০০ টাকা অর্থ আদায় করছেন বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়ায় কর্মরত কাউন্টারে থাকা কর্মীরা।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গভীর রাতে কাউন্টারে থাকা লোকদের সহায়তায় বিনা টিকিটে একাধিক মালবাহী ট্রাক পারাপার হয়। কাউন্টার থেকে বলে দেয় তাই তারা খুব সহজেই ফেরি পার হয়ে যায়।
ট্রাকচালক জসিম বলেন, আমার গাড়িতে মাল অভারলোড আছে তাই ২৭০০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। আগে ২০ টন মাল নিয়ে গেলে ২৬০০ টাকা নিতো, এখন ২৭০০ নিতাছে। তারপরও টিকিট পাই না। দালালরা যার যার মত টিকিট নিয়া ভিআইপি কইরা গাড়ি পার কইরা দেয়। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করি।
এই প্রতিবেদক টিকিটটি হাতে নিয়ে দেখেন, তার টিকিটে মূল ভাড়া ২১০০ টাকার সঙ্গে হাতে লিখে অতিরিক্ত ৪৮০ টাকা যোগ করা হয়েছে। যদিও ফেরির কপিতে সেই অতিরিক্ত টাকার অংশে ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল। সব মিলিয়ে ভাড়া হওয়ার কথা ২৫৮০ টাকা। কিন্তু তার কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২৭০০ টাকা।
চুয়াডাঙ্গাগামী আরেক ট্রাকচালক বলেন, টিকিটে লেখা আছে ২১০০ কিন্তু নিয়েছে ২২০০ টাকা। তারা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে বলে তাদের নাকি ঈদ বোনাস দেওয়া লাগে।
হামিম নামে এক ছোট গাড়ির ড্রাইভার বলেন, ভাড়া ১৫৫০ কিন্তু নিছে ১৬০০ টাকা। প্রতি গাড়ি থেকেই এমন করে তারা। আবার মাঝে মাঝে ঘাট যত জ্যাম হবে তত টাকা আরও বাড়িয়ে দেয় তারা।
আরও কয়েকজন ট্রাক ড্রাইভারের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বিআইডব্লিওটিসির কাউন্টারের কর্মীরা।
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট রায়হান খান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার সাথে আমাদের কোনো লোক জড়িত না। এটা করার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


