নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টে সতর্কতাটি দেয়।
কালবেলার পাঠকদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা বাংলাদেশ দূতাবাস, কাঠমান্ডু, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
বাংলাদেশ দূতাবাস, কাঠমান্ডু, সকল বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে এবং যতক্ষণ আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হচ্ছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষত, পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস, এবং তুষারপাতের ফলে অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নিত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাং-এর বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং স্থগিত করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাং লা এবং ভীমথাং উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও, ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ এবং নিকটবর্তী ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পোখারা ও আশপাশের এলাকা ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে । মুস্তাং, জমসম এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকার ভ্রমণের পূর্বে গান্দাকি প্রদেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকা প্রয়োজন কেননা এসব সড়ক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক বিঘ্নিত হতে পারে।
এ কারণে, বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ বিভিন্ন পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সব তথ্য যাচাই করা এবং নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণ করছেন, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, নদীর তীর ও ভূমিধসের আশংকাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলা, ভ্রমণের আগে সড়ক ও আবহাওয়া পরিস্থিতি যাচাই করা এবং ট্রাভেল অপারেটর ও দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
দূতাবাস নেপালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষাসহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।


